ভাস্কর মিশ্রর পুথি

ভাস্কর মিশ্রর পুথি

ভাস্কর মিশ্রর পুথির ব্যাপারটা যে এরকম একটা অদ্ভুত কাহিনির রূপ নেবে, সেটা সে দিন অসীমদের বাড়ি গিয়ে পুথিটার ফোটোস্টাট কপি না পড়লে জানতেই পারতাম না। ব্যাপারটা ঘটতে বা বলতে পারি, পুরোপুরি জানতে, প্রতিটি ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েক বছরের ব্যবধান গিয়েছে। যেমন, অসীমদের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির অনেক পরে লা-পোর্ত-এর সঙ্গে যোগাযোগ। তারপর লা-পোর্তৃ-এর চিঠি পাওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে হঠাৎ অসীমদের বাড়ি গিয়ে ভাস্কর মিশ্রর পুথি দেখা।

অসীম পুরো ব্যাপারটা জানত না। তবুও সে আমার বিস্ময়ের ভাবটা লক্ষ করছিল। কিন্তু আমি তাকে কিছু বলিনি। হয়তো সে হেসে উড়িয়ে দেবে। হয়তো তার আবাল্যলালিত বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া হবে। তবুও ব্যাপারটা আমাকে আজও এমন ভাবিয়ে তোলে যে, অন্তত লিখে রাখব ঠিক করলাম। কোনও পাঠক হয়তো আমার সে দিনের বিস্ময়ের ভাবটা অনুভব করবে, এইটুকু আশা নিয়েই লিখলাম ভাস্কর মিশ্রর পুথির এই কাহিনি।

পুথি কথাটার মানে যে তালপাতার ওপরে হাতে লেখা বই, সেটা ইস্কুলে পড়তে পড়তে অসীমের কাছেই শুনেছিলাম। ছোটবেলায় মালা গাঁথার পুঁতিকেই পুথি বলতাম। বন্ধু অসীমই যে আমার বানান আর উচ্চারণ শুধরে দিয়েছিল, সেটা স্বীকার করতে লজ্জা নেই। তখনই অসীমের কাছে শুনেছিলাম যে, তাদের পূর্বপুরুষ ভাস্কর মিশ্রর হাতে লেখা পুথি তাদের বাড়ির একটা কাঠের সিন্দুকে রাখা আছে।

বড় হয়ে কলেজে উঠে তার কাছে জানতে পারলাম ভাস্কর মিশ্রর সেই পুথির নানা বৈশিষ্ট্যের কথা। আগেকার কালে পুথিতে নাকি শুধু কাব্য, দর্শন, ব্যাকরণ ইত্যাদিই লেখা হত। কিন্তু ভাস্কর মিশ্রর পুথিটার কিছু অংশ অনেকটা ডায়েরির মতো করে লেখা, যা সেকালে দেখা যেত না। একটা অলৌকিক ঘটনার কথা তাতে লেখা আছে। পুথিটার অবশ্য অনেক অংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যেটুকু আছে, সেটাও প্রায় জীর্ণ। অক্ষরগুলো ছাঁদ টানাটানা ছবির মতো, যেমন করে এখনও অনেক মুদির দোকানের ফর্দ লেখা হয়। অসীম বলত, টেনে টেনে না লিখলে তালপাতা ছিঁড়ে যেত। দক্ষিণ ভারতে আবার কলাপাতায় লেখার চল ছিল বলে গোল গোল করে লিখতে হত। না হলে কলাপাতা চিরে যেত। তাই ওসব ভাষার অক্ষর গোলাকার। অসীমের এসব কথার সত্য-মিথ্যা কতখানি জানি না। তবে ভাস্কর মিশ্রর পুথিটা যে তালপাতায় লেখা, সেটা আমি নিজে দেখেছি।

পুথিটাকে কেন ওরা মিউজিয়ামে দেয়নি, সে কথা জিজ্ঞেস করলে অসীম বলত, ওটা তাদের কাছে গৃহদেবতার মতো পবিত্র, পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে বংশপরম্পরায় আছে। ওদের পূর্বপুরুষরা নাকি ওটাকে শনির পাঁচালির মতো পুজোর সময় পাঠ করতেন। তাতেই ওটা নষ্ট হয়ে যায়। স্বয়ং শনি ঠাকুর একবার দর্শন দিয়েছিলেন ভাস্কর মিশ্রকে। তার কথাই লেখা আছে এই পুথিতে। সেই শনিবন্দনাতেই পুথিটার আগাগোড়া ভরতি।

এর বেশ কয়েক বছর পরে ফরাসি গবেষক লা-পোর্তৃ-এর সঙ্গে আমার আলাপ হল। লা-পোর্ত ফ্রান্স থেকে কলকাতায় এসেছিলেন শুধু বাংলার নানারকম হিন্দু দেবদেবী ও তাঁদের পুজো সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে। এর আগে বাংলার মন্দির বা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্য সম্বন্ধে গবেষণা করতে সুদূর পাশ্চাত্য দেশ থেকে অনুসন্ধিৎসু বিদ্যানুরাগী আরও পণ্ডিতকে এ দেশে আসতে দেখেছি। এবার দেখলাম লা-পোর্তকে। সৌভাগ্যক্রমে আলাপ হয়ে গেল। গ্রামবাংলার অধুনালুপ্ত সুবচনী, ঘেঁটু এবং আরও সব পুজো সম্বন্ধে তাঁর কাছে এমন কথা শুনলাম, যা আমি নিজেও জানতাম না।

শনি ঠাকুরের কথা উঠতে আমি লা-পোর্তকে বলেছিলাম ভাস্কর মিশ্রর পুথির কথা। তিনি ব্যাপারটাতে বেশি আগ্রহী হয়ে, আমাকে সঙ্গে করে একদিন সোনারপুরের দিকে অসীমদের বাড়ি নিয়ে যেতে বললেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে আমাকে হঠাৎ দিল্লি যেতে হওয়ায় আমার পক্ষে লা-পো-এর সঙ্গে যাওয়া আর হল না। আমি অসীমকে একটা চিঠি দিয়ে সব জানিয়ে লা-পোর্ত-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে সাহায্য করতে বললাম। তার একটা কপি লা-পোর্তকেও দিলাম।

ভেবেছিলাম, অসীমের সঙ্গে একটা দিন ঠিক করে অসীম বা অন্য কোনও পরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে লা-পোর্ত অসীমদের বাড়ি যাবেন। কিন্তু তিনি যে একাই ম্যাপ হাতে নিয়ে গাড়ি করে রওনা হবেন, তা কে জানত! ফোটোস্টাট কপি তোলার ক্যামেরা নিয়ে দুপুরেই তিনি নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে বেরিয়ে পড়েছিলেন, সেটা পরে ফ্রান্স থেকে লেখা তাঁর চিঠিতে জেনেছি। এর আগে অসীমের কাছে শুনেছিলাম যে, লা-পোর্ত নির্দিষ্ট দিনে যাননি। একেবারে দেশে চলে গিয়েছেন। লা-পোর্ত-এর পরিচিত স্থানীয় কারও সঙ্গে আমার তেমন আলাপ ছিল না। তাঁরা সব তাবড় পণ্ডিত। হয়তো আমার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নানা প্রশ্ন করবেন। তাই ঠিক করলাম, সোজা লা-পোর্তকেই তাঁর মার্সেইয়ের ঠিকানায় চিঠি দেব। ঠিক এই সময়ে তাঁরই চিঠি এসে পড়ল আমার হাতে।

লা-পোর্ত তাঁর চিঠিতে সোনারপুরে যাওয়ার রাস্তায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা লিখেছিলেন। তার সঙ্গে একটা ঘটনার কথা লিখেছেন, যেটা চোখের ভুল না মনের ভুল, এখনও তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। চিঠিটায় সম্বোধন যেন খুব প্রিয় বন্ধুকে করেছেন এইভাবে শেরামি সঁসিয়ে সোদুরি–আমার প্রিয় বন্ধু শ্ৰীচৌধুরি–চৌধুরি বানানটা ঠিক লিখলেও আমাকে ডাকতেন ওই উচ্চারণেই। চিঠিটা বাংলা করলে এই দাঁড়ায়–

‘আপনাকে অনেক আগেই চিঠি লেখা উচিত ছিল, কিন্তু ভারত থেকে ফেরা পর্যন্ত আমার শরীরটা তেমন ভালো যাচ্ছে না। আশা করি, কারণ বিবেচনা করে ত্রুটির জন্য ক্ষমা করবেন।

আপনি হয়তো শুনেছেন, আপনার চিঠি নিয়ে আমি একাই গাড়ি চালিয়ে আপনার বন্ধুর বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করি। কলকাতা থেকে অনেক বন্ধুজনই আমার সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি একাই যেতে চাইলাম। এটুকু রাস্তা। তা ছাড়া পথনির্দেশকও আপনি ভালো এঁকে দিয়েছিলেন। সেই কাগজটা নিয়ে দুপুরে রওনা হয়ে গেলাম। সন্ধে থাকতে থাকতে ফিরে আসতে কোনও অসুবিধাই হবে না। ঠিক ছিল, শনিবার দিনটায় আপনার বন্ধু তাঁর বাড়িতেই আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।

একটা খাল পেরোনোর পরেই হঠাৎ মেঘে আকাশটা কালো হয়ে এল, বড় বড় কয়েকটা বৃষ্টির ফোঁটাও এসে পড়ল সামনের কাঁচে। হু হু করে ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল জোরে। বুঝলাম, একেই আপনাদের দেশে বলে কালবৈশাখী। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে আপনাদের বৈশাখ মাস শুরু হয়। কিন্তু দিনটা তো ছিল এপ্রিলের তিন তারিখ।

ঠান্ডা হাওয়া লেগেই কি না জানি না, মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করতে লাগল। হঠাৎ আমার মধ্যে একটা কীসের খেয়াল চাপল। আমি আপনার দেওয়া ম্যাপ অনুসরণ না করে নিজের মতো গাড়ি চালিয়ে যেতে লাগলাম। ছোটবেলা থেকেই মেঘলা দিনে আমার ওরকম খেয়ালখুশিমতো বেরিয়ে পড়ার স্বভাব ছিল। তার জন্য গুরুজনদের কাছে অনেক বকুনি খেয়েছি। কিন্তু আজ পরিণত বয়সে এই নতুন দেশে আমাকে বকার কেউ ছিল না। তা ছাড়া এরকম অচেনা রাস্তা ফ্রান্সে কোথায় পাব? আপনি হয়তো ভাবছেন নেহাত ছেলেমানুষি। আচ্ছা বলুন তো সঁসিয়ে সোদুরি, এরকম ছেলেমানুষি আপনার কখনও আসে না? আপনিই তো বলেছিলেন, কালবৈশাখীর সময় শিল পড়তে দেখলে, চারদিকে কেউ না থাকলে আপনিও কুড়োতে আরম্ভ করেন।

যা-ই হোক, কিছু দূর যাওয়ার পরে শরীরটাও বেশ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এল। মনে মনে প্রমাদ গুনলাম, নিজের খামখেয়ালিপনার জন্য নিজেকেই গালাগাল করলাম। এখন আর ঘুরে সোনারপুরে যাওয়া সম্ভব নয়। কলকাতাতেই ফিরে যেতে হবে।

কিন্তু আমার ইচ্ছের ওপর নিয়ন্ত্রণ যেন আমি হারিয়ে ফেলেছি। এখন দেখছি, দু-পাশে ফাঁকা মাঠ। প্রবল বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। এই দুর্যোগে অসুস্থ শরীরে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনও বাড়িও চোখে পড়ছে না। ঘোরের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, একটুও যেন এগোচ্ছি না।

হঠাৎ সামনেই একটা সুন্দর ছবির মতো বাড়ি চোখে পড়ল। খোলা ফটকের কাছে গাড়িটা থামিয়ে হর্ন দিলাম। বাড়ির সামনে বারান্দায় এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক মাটিতে বসে সামনে একটা মিনি টেবিলে (লা-পোর্ত জলচৌকির কথা বলেছিলেন) প্রদীপের আলোয় বই রেখে পড়ছিলেন। হর্ন শুনে গাড়িটার দিকে তাকালেন। তাঁর সেই দৃষ্টির মধ্যে যা ছিল তা এককথায়, ভয় আর বিস্ময় একসঙ্গে। আমি গাড়ি থেকে নামলাম। বৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচানোর জন্য শোলার হ্যাটটা পরে নিলাম। বাতাস থামলেও সন্ধের আগেই চারদিকে কালো মেঘে অন্ধকার। লোডশেডিং-এর কথা ভেবে একটা টর্চ এনেছিলাম। সেটা জ্বালিয়ে পথ দেখতে দেখতে ফটকের দিকে এগিয়ে গেলাম। বৃদ্ধের উদ্দেশে ইংরেজিতে ব্যাপারটা বলতে চাইলাম। তার আগেই বৃদ্ধ উঠে এসে যা করলেন, সেটা আমাকে ওই জ্বরের মধ্যে বিস্ময়াভিভূত করল।

তিনি নতজানু হয়ে করজোড় হয়ে কী যেন বলতে লাগলেন। তারপর এগিয়ে এসে আমার মুখের সামনে ফটকটা বন্ধ করে দিলেন।

ভারতবাসীরা আর যা-ই করুক, অতিথিদের অমর্যাদা করে না।

 বিশেষ করে সেই অতিথি যদি হয় বিপন্ন বিদেশি। তাই অপমানের চাইতেও বিস্ময় আমার মনকে অধিকার করল বেশি। কিন্তু এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আমি টলতে টলতে গাড়িতে ফিরে এলাম। তারপর জ্ঞান হারালাম।

স্থানীয় অধিবাসীরা আমাকে ওই অবস্থায় দেখে কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। আমি বাড়িটা আর বৃদ্ধ লোকটি সম্বন্ধে বলতে হেসেছিল। বলেছিল, জ্বরের ঘোরে স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু মঁসিয়ে, বিশ্বাস করুন, এরকম পরিষ্কার স্বপ্ন আমি জীবনে দেখিনি। তবে সত্যিই বা বলি কী করে? আমার গাড়ি যেখানে ওরা দেখেছিল, তার পাশে ছিল একটা স্কুলবাড়ি আর খেলার মাঠ।

সে দিন যে অসুখ বাধিয়ে বসলাম, তার জের এখনও চলছে। আমার কাজ আর শেষ হল না, তাই বলি, সঁসিয়ে, এই বয়সে ছেলেমানুষি এলে একবার ভাববেন, শরীর সেটা সইবে কি না। অবশ্য শিল কুড়োনোটা পরিশ্রম সাধ্য কাজ নয়।

অনেক ভালোবাসা জানবেন।

আপনার চিরকালের বন্ধু,

জাঁ-লা-পোর্ত’

লা-পোর্ত-এর না-যাওয়ার কারণটা অসীম জেনেছিল। তারপর হঠাৎ একবার ছুটির দিনে আমাকেই সে টেনে নিয়ে গেল তার বাড়ি।

ইস্কুল আর কলেজজীবনে তাদের বাড়িতে কয়েকবার এসেছি। তবে পুথিটা কোনও দিনই দেখিনি, বড়রা নিষেধ করতেন, নষ্ট হয়ে যাবে বলে। এখন অসীমই বাড়ির কর্তা। সে বলল, আয়, তোকে পুথিটা দেখাই।

দেখলাম, সত্যিই জরাজীর্ণ অবস্থা। অসীম বলল, পুথিটার একটা ফোটোস্টাট কপি করিয়েছি। কিছু অংশ বেশ পড়া যায়। এই দেখ। কপিগুলো আটকানো একটা অ্যালবাম অসীম আমার হাতে দিল। খুলে দেখলাম সেই শিলালিপির মতো করে লেখা আগেকার বাংলা। তবে বেশ পড়া যায়। খুলতেই দেখলাম পদ্যাকারে লেখা সেই ডায়েরি, যেখানে ভাস্কর মিশ্র শনি ঠাকুরের দর্শন সম্বন্ধে লিখেছেন।

চৈত্র অমাবস্যায় তৃতীয় প্রহরে।
যা দেখিনু তাহে মন বিস্ময়েতে ভরে।
 স্বপ্ন কি বা সত্য তাহে না হয় প্রত্যয়।
অশুভ কি শুভ ভাবি মনে লাগে ভয়।
লিখিলাম এ কাহিনি যাহা পড়ে মনে।
 প্রণতি করিয়া নিয়া শনির চরণে।
কৃষ্ণবর্ণ কূর্ম এক প্রকাণ্ড আকার।
 দুই চক্ষু দিয়া অগ্নি ধাইল তাহার।
থামিয়া কুটির দ্বারে জোরে চিৎকারিল।
উদর বিদারি এক দেব বাহিরিল।
গৌরবর্ণ শিরে অর্ধশনি শিরস্ত্রাণ।
 করেতে বিজলি হানি আলো করে স্থান।

প্রথমে সাধারণভাবেই পড়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু যেই পড়লাম–

নতজানু হইয়ে পড়ি বলি করজোড়ে।
হে দেব অশুভ দৃষ্টি করিও না মোরে।

সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে যেতেই আমার শরীরের লোমগুলো খাড়া হয়ে উঠল। আর-একবার প্রথম থেকে পড়লাম।

এ কোন ঘটনার কথা লিখেছেন ভাস্কর মিশ্র? কৃষ্ণবর্ণ কূর্ম কি লা-পোর্ত-এর অ্যাম্বাসাডার গাড়িটা? চারশো বছর আগে হেডলাইট জ্বালানো মোটরগাড়ি দেখলে ভাস্কর মিশ্রর মতো যে-কোনও লোকই তা-ই ভাবত। করেতে বিজলিও তো লা-পোর্ত-এর ছিল। তাঁর টর্চলাইট। অর্ধশনি শিরস্ত্রাণ নিঃসন্দেহে তাঁর শোলার টুপি। দূর থেকে তাকে শনি গ্রহের মতোই দেখায়।

কিন্তু চারশো বছর আগে লা-পোর্তকে তিনি দেখলেন কী করে? মাত্র তিন বছর আগে লা-পোর্ত যে বৃদ্ধ লোককে দেখেছিলেন, তিনি কি ভাস্কর মিশ্র! কিন্তু কার দেখা সত্যি? নাকি দু-জনেই স্বপ্ন দেখেছিলেন?

এতগুলো প্রশ্নের গোলকধাঁধায় আমাকে এভাবে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুই বুঝতে না পেরে অসীম আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

[সন্দেশ, শারদীয়া ১৩৮৯]