অণুঘ্রাণ যন্ত্র

অণুঘ্রাণ যন্ত্র

বারান্দায় ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে রাস্তার দিকে আনমনাভাবে চেয়ে থাকতে থাকতে দশ বছর আগের চৌরঙ্গির রেস্তরাঁটার ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠল। পাশের ছোট সাইড টেবিলে চিঠিটা খোলা অবস্থায় পড়ে আছে, একটা অব্যক্ত যন্ত্রণার মতো। চিঠিটার সঙ্গে এক কাপ চা-ও চাকর ফুলচাঁদ দিয়ে গিয়েছিল। সেটা কখন জুড়িয়ে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে, খেয়ালই করিনি! দশ বছর আগে বাদলের সেই অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের চিহ্নটাই এখন যেন খঙ্গের রূপ ধরে মনের মধ্যে ঝলসে উঠছে।

আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয় কী কী, বল তো সন্তু?

হঠাৎ এরকম প্রশ্নে অবাক হলাম।

বাদলের সঙ্গে রেস্তরাঁয় বসে মোগলাই পরোটা খাচ্ছিলাম। বাদল তখন কলকাতার এক প্রথম শ্রেণির কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডক্টর মিত্র, আর আমি এক দ্বিতীয় শ্রেণির রঙের কোম্পানির আঞ্চলিক বিক্রয় অধিকর্তা। কাজেই আমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখলে পরিচিত কারও কাছে বিসদৃশ মনে হবে হয়তো। কিন্তু স্কুলজীবন থেকে যারা আমাদের চেনে, তাদের কাছে হবে না। কর্মজীবন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেলেও, আর কলকাতার দুই প্রান্তে দু-জনে থাকলেও, ছুটিছাটার দিন একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার অভ্যেসে সেটা কোনও অন্তরায় হতে পারেনি। দু-জনের আবাল্যের বন্ধুত্ব বজায় ছিল। দু-জনেই অবিবাহিত ছিলাম বলে সাংসারিক দায়দায়িত্বও আমাদের আড্ডার পথে অন্তরায় হয়নি।

সে দিন বাদলের এই হঠাৎ-প্রশ্নে অবাক হলেও গুরুত্ব দিইনি। ভাবলাম, মোগলাই পরোটার সঙ্গে জিব আর নাকের সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ। সেটাই হয়তো তার চিন্তাধারাকে এই স্কুলে-পড়া বিষয়টাতে টেনে নিয়ে গিয়েছে।

পঞ্চভূত, পঞ্চপাণ্ডব আর পঞ্চনদীর মতো পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের নামও ছোটবেলা থেকেই মুখস্থ। চটপট উত্তরও দিলাম, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক।

সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় প্রশ্ন করল বাদল, তাদের কাজ?

বন্ধু হলেও তো কলেজের একজন অধ্যাপক। বুড়ো বয়সে এ কী ছেলেমানুষি আরম্ভ করেছে এই লোকজনে ভরা রেস্তরাঁতে! একটু বিরক্তই হলাম। তবুও পরীক্ষার পড়া মুখস্থ বলার মতো বলে গেলাম, রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ, স্পর্শ উপভোগ করাই এদের কাজ।

বাদল চোখ বুজে মাথাটাকে একটু নাড়াল। তারপর বলল, এটাকে এভাবে সাজালে ঠিক হত–রূপ, শব্দ, গন্ধ, রস, স্পর্শ। তাহলে পঞ্চেন্দ্রিয়ের নামগুলোর সঙ্গে সংগতি থাকত। কিন্তু একটা জিনিস কখনও লক্ষ করেছিস? এই যে পঞ্চ ইন্দ্রিয়, এর প্রথম দুটোকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের যত কারবার, যত আবিষ্কার। গ্রামোফোন বল, বায়োস্কোপ বা সিনেমা বল, রেডিয়ো-টিভি যা-ই বল, সবই ওই দেখা আর শোনার ব্যাপার। অথচ দেখ, মানুষের এই দুটো ইন্দ্রিয়ই কথায় কথায় নষ্ট হয়ে যায়। গন্ধশক্তি, স্বাদগ্রহণের শক্তি বা স্পর্শশক্তি একেবারে নষ্ট হওয়ার কথা খুবই কমই শোনা যায়। তবুও এই তিন ইন্দ্রিয়ের কাজের ওপরে তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়নি। করার চেষ্টাও বড় একটা কেউ করেনি।

বুঝলাম, বাদল পদার্থবিজ্ঞানের কথাই তুলছে, আতর, সেন্ট বা মোগলাই পরোটার মতো রসায়নের ব্যাপার নয়।

একটু হেসে বললাম, আসল ব্যাপারটা হল, ওই তিন ইন্দ্রিয়ের কাজটা অনেকটা আমাদের ঘরোয়া ব্যাপার, তা-ই না? এই যেমন, একটু ভালোমন্দ চেখেচুখে খেলাম, ভালো খাবারের ভুরভুরে গন্ধে জিবের জল টানলাম, আর খাওয়ার পরে নরম বিছানায় শুয়ে আরামে ঘুম দিলাম। তখন অবশ্য নাসিকার আর একটা কাজও অনেক কুম্ভকর্ণর বেলায় শোনা যায়। যা-ই হোক, এই তো বাকি তিন ইন্দ্রিয়ের কাজ। বিজ্ঞানীরা এতে হস্তক্ষেপ না করলেই বাধিত হব। তা ছাড়া এইসব খাওয়া আর ঘুমোনোর কাজকে তেনারা অলস লোকের স্কুল ব্যাপারই মনে করেন।

আমার কথায় বাদল যেন একটু উত্তেজিত হয়ে উঠল। বলল, ওটাই তো তোদের মতন সাধারণ মানুষের মনোভাব। মানুষের এই তিন ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগিয়েও অনেক কিছু আবিষ্কার করা যেতে পারে। কুকুরের কথা ধর। কী করে ওরা খুঁকে জিনিসের স্বরূপ বুঝে নেয়। আবার হাতি তো এই তৃতীয় ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করেই বনেজঙ্গলে চরে বেড়াচ্ছে। শুনেছি, তারা শুধু কয়েক মাইল দূর থেকে মানুষের গন্ধই পায় না, তারা দেশি লোক না বিদেশি লোক, সেটা পর্যন্ত গন্ধে বুঝতে পারে। আমাদের ঘ্রাণগ্রহণের ক্ষমতাকে যদি এইভাবে বাড়িয়ে দিতে পারা যায়, তবে কত সুবিধে হয় বল তো? অন্ধদের বেলায় তো চলতে-ফিরতে কোনও সাহায্যই লাগবে না!

গন্ধবিচার-এর প্রসঙ্গটা অবশ্য সে দিন আর এগোয়নি। তারপর তিন বছর বাদল দেশে ছিল, কিন্তু কুকুর বা হাতির সৌভাগ্য নিয়ে আর কোনও কথা বলেনি।

তারপর ও আমেরিকায় চলে গেলে অনেক বছর পরে আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হল। চিঠিপত্রের যোগাযোগ ছিল অবশ্য, কিন্তু তাতে কি আর সেই আড্ডার স্বাদ আছে!।

তারপর যা হয়–আস্তে আস্তে চিঠিপত্রও অনেক কমে গেল। বাদল লিখেছিল, সে গবেষণার ব্যাপারে ব্যস্ত বলে হয়তো ঠিকমতো চিঠিপত্র লিখতে পারবে না, তাতে আমি যেন কিছু মনে না করি।

চিঠি লেখার ব্যাপারে আমিও আলসে। কাজেই দু-দিক থেকেই ভারসাম্য হয়ে গেল, আর বাদলের সঙ্গে বিচ্ছেদের যে মনঃকষ্টটা, সেটাও যেন অন্য কাজকর্মের মধ্যে ফিকে হয়ে গেল।

অনেককাল পরে বাদলের একটা চিঠি এল। চিঠিটা পড়ে তো অবাক হয়ে গেলাম! বাদল সত্যিই এসব করেছে? নাকি আমাকে বোকা বানাচ্ছে? বাদল লিখেছেঃ

‘সন্তু,

মানুষের ঘ্রাণশক্তিকে আরও তীব্র করার ব্যাপারে অনেক বছর আগে তোকে একবার বলেছিলাম, মনে আছে কি? তুই ভাবিস না যে, আমি শুধু কতকগুলো কথার কথা বলেছিলাম। আমি একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছি। নাম দিয়েছি, মাইক্রো-ওডোর। বাংলায় বলতে পারিস, অণুঘ্রাণ যন্ত্র। এটা নাকে লাগালেই সব জিনিসের গন্ধ এতে ধরা পড়বে। শুধু ফুল, আতর, পচা জিনিস বা তোর ওই ভুরভুরে খাবারের গন্ধই নয়। আমি এই যন্ত্র নাকে লাগিয়ে চোখ বুজে বলে দিতে পারি–সামনে গাছ আছে, না গাড়ি আছে, না মানুষ আছে। প্রতিটি জিনিসের গন্ধ চিনে নিচ্ছি। এরপর বলতে পারব, শুধু গাছ নয়–কী গাছ আছে, সেটাও। আকাশের গায়ে কেন টকটক গন্ধ–কথাটা হয়তো একেবারে আবোল তাবোল নয়। হাইড্রোজেন বেশি থাকলে সত্যিই টকটক লাগে। আচ্ছা সন্তু, তুই কি জলপিপাসার সময় টিউবওয়েলের জল খেয়ে তার লোহা-লোহা গন্ধ পাসনি? বৃষ্টির পরে মাটির সোঁদা-সোঁদা গন্ধ, বাগানে ঢুকে গাছের একটা হালকা ঠান্ডা গন্ধ, কি পুকুরের জলে শ্যাওলা আর মাছের গন্ধ?

আমি এখন সব গন্ধ পাই এই যন্ত্র নাকে লাগিয়ে। লোহার গন্ধ, তামার গন্ধ, সোনার গন্ধ–সব কিছু। এবার সেই রূপকথার রাক্ষসের মতন মানুষের গন্ধও মুখস্থ করে ফেলব। খুব চেনা মানুষের গন্ধও যে আমাদের চেনা থাকে, সেটা হয়তো আমরা নিজেরাই জানি না। ছোটবেলায় মায়ের শাড়িতে মায়ের গন্ধ পেতাম। বাবার গামছায় পেতাম বাবা-বাবা গন্ধ। একবার এ কথা বলে ফেলাতে সবাই খুব হাসাহাসি করেছিল। মাইক্রো-ওডোর নাকে বসালে সবার হাসি বন্ধ হবে।

যন্ত্রটার দুটো অসুবিধে ছিল। একটাকে এত দিন পরে দূর করেছি। সেটা হল, প্রথমের দিকে ওটা পরলে বাতাসের গন্ধে, অর্থাৎ নাইট্রোজেন আর অক্সিজেনের গন্ধেই সব কিছু চাপা পড়ে যাচ্ছিল। অবশেষে একটা ফিলটার আবিষ্কার করে ওতে লাগিয়ে দিয়েছি। এতে নাইট্রোজেন আর অক্সিজেনের গন্ধ মাইক্রো-ওডোরে ঢুকবে না। দ্বিতীয় অসুবিধেটা অবশ্য দর্শনধারী। নাকে ওরকম একটা যন্ত্র এঁটে রাখলে দেখতে খুব সুন্দর লাগে না। তবে মনে হয়, চশমার মতন এটা দেখতেও লোকে একদিন অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

তুই বাল্যবন্ধু বলেই তোকে মাইক্রো-ওডোরের কথা জানালাম। একজনকে না জানালে সেই হাজামের মতন পেটটা ফুলে যাচ্ছিল। তুই এখনই কাউকে বলিস না। এ ব্যাপারে আরেকটু এগিয়ে তবেই পৃথিবীর কাছে ঘোষণা করব আমার আবিষ্কারের কথা। কারণ, এখনও এটাকে তেমন শক্তিশালী করা যায়নি। এরপরে আমার মনে আছে টেলি-ওডোরের পরিকল্পনা। অনেক দূরের জিনিসের গন্ধ ধরা পড়বে তাতে। হাতির শুড়ের মধ্যে প্রকৃতি যে টেলি-ওডোরের মালমশলা দিয়েছেন, আমার যন্ত্রের মধ্যেও থাকবে সেগুলোই।

আশা করছি, বছর দেড়েক পরে যখন ভারতে যাব, তখন মাইক্রো-ওডোরের খবর পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়বে। তোকে একটা যন্ত্র উপহার দেব। তখন লোডশেডিং হয়ে গেলে অন্ধকারে গন্ধ শুঁকেই মোমবাতি পেয়ে যাবি। হাতড়াতে হবে না।

-বাদল’

মাইক্রো-ওডোরের ব্যাপারটা আমার কাছে উদ্ভট আর অবিশ্বাস্য বলে মনে হল। কিন্তু কোনও সন্দেহ প্রকাশ না করে একটু খোঁচা দিয়ে বাদলের চিঠির উত্তর দিলাম:

…বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরিতে জল্লাদ না থাকলেও পটাশিয়াম সায়ানাইড তো আছে। তাই এক শিশি আমার জন্যে আনিস। গন্ধ শুঁকে মরার মতন আহ্লাদ আমার হয়নি। সত্যি কথা বলতে কী, মৃদু স্নিগ্ধ গন্ধই আমার ভালো লাগে। সেই জন্যে জুই-বেল- চামেলির গন্ধ চাঁপা-বকুলের গন্ধের চেয়েও আমার প্রিয়। আর তা ছাড়া, আশপাশে ইঁদুরটিদুর মরে পচলে তোর ওই মাইক্রো-ওডোর তো জল্লাদের কাজই করবে।..

এরপর অনেকদিন বাদলের কাছ থেকে আর কোনও চিঠি না-পাওয়ায় ওই ধরনের চিঠি লেখার জন্য আমার একটু অনুতাপই হল। আমিই একমাত্র লোক, যাকে সে বিশ্বাস করে তার ওই যন্ত্রের কথা লিখেছে। আমার ওভাবে ঠাট্টা করা উচিত হয়নি।

নববর্ষের চিঠিটা এবার আমিই আগে লিখলাম। তার যন্ত্রটা কীরকম কাজ দিচ্ছে, টেলি-ওডোরের সাফল্য কত দূর, এইসব জানার আগ্রহ প্রকাশ করলাম ওই চিঠিতে। ভাবলাম, হয়তো সে খুশি হবে এতে।

চিঠির উত্তর পেলাম। কিন্তু কেমন একটা বিষাদের সুর যেন তাতে। বাদল লিখেছে:

‘সন্তু,

জানিস, মাইক্রো-ওডোরে আমি বেশ কয়েক মাস ধরে একটা অদ্ভুত গন্ধ পাচ্ছি। দিন দিনই গন্ধটা বাড়ছে। খুব চেনা-চেনা মনে হয় গন্ধটা। কেমন একটা মন খারাপ করে দেয় সেটা। কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারছি না কীসের গন্ধ। কোনও জিনিসের গন্ধের সঙ্গে আরেকটা জিনিসের গন্ধের মিল নেই–যেমন, দুটো জিনিস একরকম দেখতে হয় না। এটা কীসের গন্ধ? নাইট্রোজেন, অক্সিজেন বা অন্য কোনও গ্যাসের গন্ধ নয়। সেসব গন্ধ আমার চেনা। অথচ এই গন্ধ আমি যেন কোথায় পেয়েছি। ছোটবেলায় কোথাও। আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না। কাউকে বলতেও পারছি না। কারণ, আমার যন্ত্রের কথা এখনও কাউকে বলিনি। এই গন্ধটা কীসের, সেটা না-জানা পর্যন্ত আমার শান্তি নেই।

-বাদল’

বন্ধুর চিঠিটা পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। কোনও সন্দেহ নেই, ওর মাথা খারাপ হয়েছে। আমেরিকা থেকে একজন পরিচিত ভদ্রলোক এলেন। তাঁর কাছেও সেরকমটাই শুনলাম।

কয়েক মাস পরেই বাদল কলকাতায় ফিরল। বলা উচিত, ফিরিয়ে আনা হল।

 কিন্তু তখন সে প্রায় স্মৃতিশক্তিহীন। দেখা করতে গেলে আমাকেও সে চিনতে পারল না, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল আমার দিকে। আমেরিকার ডাক্তাররা বললেন, ব্রেন ক্যানসার। বাঁচার আশা নেই বললেই হয়। তাই চিকিৎসা বা অপারেশন যা-ই হোক, ভারতে এনে করাই ভালো–এটাই ছিল সবার অভিমত। তাতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখাটা অন্তত হবে।

.

বাদলের অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছিল কি না জানি না, কারণ ভেলোর থেকে শুধু তার মৃতদেহটা ফিরে এসেছিল।

খবরটা পেয়ে গুম হয়ে বসে ছিলাম দোতলার বারান্দায়। সেই ছোটবেলা থেকে সে দিন পর্যন্ত কত ঘটনা, কত কথা মনে পড়তে লাগল, যার সঙ্গে বাদলের স্মৃতি জড়িয়ে। বাদলের কি তবে সত্যিই মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগে থেকেই! মাইক্রো ওডোরের ব্যাপারস্যাপার সবই কি তার অসুস্থ মস্তিষ্কের কল্পনা!

চুপচাপ ভাবছি, এমন সময় নিঃশব্দে চা দিয়ে গেল ফুলচাঁদ। সঙ্গে চিঠিটাও। ইউএসএ ছাপ-মারা এরোগ্রাম। এখন আবার ওখান থেকে কে আমাকে চিঠি লিখবে! অবাক হয়ে চিঠিটা খুললাম।

দেখি, বাদলের চিঠি! হয়তো অনেক আগেই আমাকে লিখে রেখেছিল, ডাকে দেয়নি। এত দিন পরে কারও নজরে পড়তে ওটা পোস্ট করে দিয়েছে।

অসংলগ্ন লেখা, হাতের লেখাও আঁকাবাঁকা। সাজিয়ে-গুছিয়ে পড়লে চিঠিটা এরকম:

‘আমি এত দিনে জানতে পেরেছি ওটা কীসের গন্ধ। মৃত্যুর গন্ধ! ছোটবেলায় দাদুর মৃত্যুর আগে দাদুর ঘরে গেলেই ওই গন্ধ পেতাম। তখন অত খেয়াল করিনি। আজ মাইক্রো-ওডোরে সেই অল্পপরিচিত গন্ধটা আরও ভালোভাবে ধরা পড়েছে। আমি বুঝতে পারছি না…

এখানেই অসমাপ্তভাবে শেষ হয়েছে চিঠিটা।

খামটা হাতে ধরে হতভম্বভাবে বসে থাকলাম। বাদলের দাদুর কথা মনে পড়ল অস্পষ্টভাবে। তবে খুব ভালোভাবেই জানি, বাদলের দাদুর মৃত্যু হয়েছিল কীভাবে। তাঁর ক্যানসার হয়েছিল, গলার ক্যানসার।

[সন্দেশ, বৈশাখ ১৩৮৯]