৯ জুলাই, শুক্রবার ১৯৭১

৯ জুলাই, শুক্রবার ১৯৭১

আজ সকালেই ড্রয়িং-ডাইনিং রুমের আসবাবপত্র কিছু সরা-নড়া করে ব্যবস্থা বদলে দিলাম। ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমের মাঝখানে দুটো রুম ডিভাইডার আলমারি বসানো আছে। ঘরের এ জায়গাটার প্রস্থ হল মোল ফুট। আলমারি দুটো চার ফুট করে আট ফুট চওড়া। আলমারির দুপাশে চার ফুট করে জায়গা খোলা। সদর দরজা দিয়ে ঢুকে বাদিকে ড্রয়িং রুম, ডানদিকে ডাইনিং রুম। কোন লোক দরজা দিয়ে ঢুকে ডানদিকে তাকালেই ডাইনিং টেবিলসহ প্রায় পুরো ঘরটাই একনজরে দেখে ফেলবে। শরীফ, কাসেম, বারেক আর ড্রাইভার আমিরুদ্দি–এই চারজনে মিলে আলমারি দুটো ঠেলে সদর দরজার পাশে দেয়ালে লাগিয়ে দিল। এখন এদিকের দেয়াল থেকে শুরু করে ঘরের আট ফুট পর্যন্ত দুটো আলমারি দাঁড়িয়ে গেল। সদর দরজা দিয়ে ঢুকেই ডানদিকে তাকালে ডাইনিং রুমটা আর দেখা যাবে না। এখন বাকি আট ফুটের ব্যবস্থা করতে হবে। ডাইনিং রুমের দূরতম উত্তর-পশ্চিম কোণে যে চার ফুট চওড়া আলমারিটা ছিল, সেটা ঠেলে এনে ঘরের অপর পাশের দেয়াল ঘেঁষে রাখা হলো। এখন এই আলমারি আর এ পাশের দুটো আলমারির মাঝে ফাঁক রইল চার ফুট। এখানে একটা পর্দা ঝুলিয়ে দেবো। ব্যস, চমৎকার আলাদা দুটো ঘর হয়ে গেল। ড্রয়িংরুমের কেউই আর কোন মতে দেখতে পাবে না ডাইনিংরুমে কে কি করছে। আর একটা ছোট্ট সমস্যা রইল। রুম ডিভাইডার আলমারি দুটোর দুদিকেই পাল্লা দেয়া। বসার ঘরের দিকে বই রাখার জন্য, খাবার ঘরের দিকে গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি রাখার জন্য। এ আলমারির পেছন দিক বলে কিছু নেই। কিন্তু অন্য আলমারির পেছন দিকটা একেবারে বার্নিশবিহীন পেছনদিকই বটে। সেটা আবার বসার ঘরের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে। এই পেছনে কিছু সঁটা দরকার। মাঝখানের চার ফুট ফাঁকের জন্য পর্দার কাপড় কিনতে গিয়ে দোকানে। খোঁজ করে একটা মোটা কাপড়ের টুকরো কিনে নিয়ে এলাম। ক্রিম রঙের মোটা কাপড়ে খানিক দূরে দূরে নানা রঙের পোশাক পরা নর্তকীর ছাপ দেওয়া। এই কাপড়টা ঐআলমারির পেছনে বোমার্কাটা দিয়ে সেঁটে দিলাম। পর্দার কাপড় কিনলাম.খুব মোটা ঘন নীল রঙের ঘন কুচি ফেলার জন্য ডবল চওড়া কাপড় নিলাম। যাতে, পর্দাটা বাতাসে উড়লেও ঘনকুচির দরুন দুপাশ দিয়ে দেখা না যায়। এসব শেষ করতে সন্ধ্যে পেরিয়ে গেল। সারা দিন অন্য কোনো কাজ করি নি।

সব হয়ে গেলে দুঘরের চারটে পাখা ফুল স্পীডে ছেড়ে দিয়ে বসার ঘরে ঘুরে ফিরে বার বার করে দেখতে লাগলাম কোনভাবে খাবার ঘরের ভেতর দৃষ্টি চলে কি না। না, একেবারেই দৃষ্টি চলে না। এত ঘন কুচিওয়ালা এত ভারি পর্দাও নড়ে না এত ফুল স্পীডের পাখার বাতাসে। খুব সন্তুষ্টি লাভ করলাম সারাদিনের হাড়-ভাঙা খাটুনির পর। এখন যত খুশি প্রতিবেশীরা ফোন করতে আসুক, যখন খুশি আসুক।