৭ জুলাই, বুধবার ১৯৭১

৭ জুলাই, বুধবার ১৯৭১

গত তিনদিন ধরে বাঁকা আর শরীফের নাওয়া-খাওয়া বলে কিছু নেই। সারা দেশের সবগুলো ব্রিজ আর কালভার্টের তালিকা বানানো মুখের কথা নয়। প্রথমত, রোডস এন্ড হাইওয়েজ এর ডিজাইন ডিভিশন থেকে ব্রিজের ফাইলগুলো বের করা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ডিজাইন ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সামাদ শরীফের খুব ভক্ত। সরকারি চাকরিতে শরীফ যখন ডিজাইন ডিভিশনে ছিল, তখন সামাদকে সে ডিজাইন অফিসের জন্য গড়ে পিঠে তৈরি করে নিয়েছিল। কিন্তু ফুলের বোঁটায় কাঁটার মতো সামাদের সঙ্গে কাদের খানও শোভা পাচ্ছে–ডিজাইন ডিভিশনের অবাঙালি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। তার সন্দেহ উদ্রেক না করে অফিস থেকে ফাইল সরানো যায় কিভাবে? বাঁকা, শরীফ আর মঞ্জুর একত্র হয়ে অনেক সলাপরামর্শের পর ঠিক করল, চীফ ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমান সাহেবকে ধরতে হবে। মশিউর রহমান সাহেব কাদের খানকে বললেন ব্রিজের ফাইলগুলো তার অফিসে দিয়ে যেতে। সেখান থেকে রাতের অন্ধকারে ফাইল গেল সামাদের বাসায়। তারপর শরীফ আরবাঁকারদীন-দুনিয়া নেই।৩,৫০০টি ব্রিজ আর কালভার্ট। সে সবের তালিকা বানানো কি চাট্টিখানি কথা? আবার বেশি লোক জানাননি হলে চলবে না। সামাদের বাসায় বসে বসে বাঁকা নিজের হাতে ফাইল থেকে তালিকা কপি করেছেন। শরীফ বিভিন্ন টাইপের ব্রিজের ড্রয়িং করিয়ে প্রত্যেকটির স্পেসিফিকেশান লিখেছে।

শরীফ ও বাঁকার হাতের লেখা যাতে চেনা না যায়, সেজন্য দুজনের হাতে লেখা অংশগুলো অন্য একজনকে দিয়ে আবার কপি করানো হয়েছে।

এখন সব রেডি। এক বোঝা কাগজ গোল করে গুটিয়ে শরীফ আজ বাড়িতে নিয়ে এসেছে। ছেলে দুটি আজ-কালের মধ্যেই বাসায় আসবে ওগুলো নিতে। শরীফ ওদের বলে দিয়েছে ওদের পক্ষে ওগুলো হাতে করে অফিস থেকে বেরোনো রিস্কি। কারণ ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের অফিসের ওপর আই.বির লোকেরা চব্বিশ ঘন্টা নজর রাখে।