১৫ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ১৯৭১

১৫ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ১৯৭১

এত আটঘাট বেঁধে রেডিওর লোকের হাত এড়ানো গেল না। সেই ১৯৫০ সাল থেকে রেডিওতে প্রোগ্রাম করি, সবাই আমার চেনা। তার মধ্যে নূরুন্নবী খান একটু বেশি। ওঁর বড় ভাই এহিয়া খানও রেডিওতে বান্ধবী নূরজাহানের মামা বলে আমিও মামা ডাকি। সেই মামার ছোট ভাই নূরন্নবী খান একদিন সকাল আটটায় চলে এলেন আমাদের বাসায়। খাবার টেবিল ছেড়ে উধাও হবারও সময়টুকু পেলাম না।

নূরুন্নবী খান ঘরে ঢুকলেন দুই হাত জোড় করে। আমি কিছু বলার আগেই গড়গড় করে বলে গেলেন–সামরিক আইন কর্তারা ওঁদের পিছে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে কাজ করাচ্ছেন। পুরনো সব বেতার শিল্পী গানের, নাটকের, জীবন্তিকার, কথিকার–সব বিভাগের শিল্পীদের খুঁজে পেয়ে এনে অনুষ্ঠান করাতে হবে। নূরুন্নবী খানের বিভাগ হল কথিকা।উনিবললেন, বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পাঁচ মিনিটের কথিকা প্রচার হচ্ছে। এই দেখুন, আমি বিষয়গুলোর একটা তালিকাও সঙ্গে নিয়ে এসেছি। এ থেকে আপনার সুবিধেমত একটা বিষয় বেছে নিন। যাতে আপনারও কোনো বদনাম না হয়, আমারও পিঠ বাঁচে।

আমি বেছে নিলাম গুজবে কান দেবেন না।

আজ পহেলা বৈশাখ। সরকারি ছুটি বাতিল হয়ে গেছে। পহেলা বৈশাখের উল্লেখ মাত্র না করে কাগজে বক্স করে ছাপা হয়েছে : আজ বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক সরকারের

যে ছুটি ছিল, জরুরি অবস্থার দরুন তা বাতিল করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা শহরে এবং দেশের সর্বত্র বর্ষবরণ অনুষ্ঠানও বন্ধ।

কিন্তু সে তো বাইরে। ঘরের ভেতরে, বুকের ভেতরে কে বন্ধ করতে পারে?