১০ জুলাই, শনিবার ১৯৭১

১০ জুলাই, শনিবার ১৯৭১

ডাক্তার সহি-সালামতে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ফিরেছেন। দুপুরে আমাদের সঙ্গে ভাত খাবার পর বসে বসে ঔর করাচি-পিন্ডির ট্যুরের গল্প শুনলাম। করাচি পৌঁছে হোটেলে উঠেই ওঁরা দুজনে ডাঃ ইব্রাহীমকে ফোন করেন। উনি সঙ্গে সঙ্গে ওঁদের হোেটলে চলে গিয়ে প্রথমেই শুনতে চান ঢাকা এবং সারা পূর্ব বাংলার খবর। ডাঃ ইব্রাহীম ওঁদের দুজনকে বলেন, মিটিংটা আমি ইচ্ছে করেই পিভিতে ডেকেছি যাতে তোমাদের মুখ থেকে আসল খবর সব শুনতে পাই। এ কে খান, নূরুল ইসলামের মুখে ঢাকা ও পূর্ব বাংলার প্রকৃত অবস্থা জেনে ডাঃ ইব্রাহীম খুবই মর্মাহত ও বিচলিত হন। করাচিতে একরাত থেকে পরদিন ডাঃ ইব্রাহিমসহ ওঁরা দুজন মিটিং করতে যান পিন্ডিতে।

চারটের দিকে বললাম, চলুন, সবাই মিলে কাওরান বাজার যাই। চেঁকি-ছাটা লাল বিরুই চাল কিনে আনি।

ডাক্তার বললেন, চাল পরে কেনা যাবে। আগে টিউবওয়েল বসানোর কাজটা সেরে নিই।

 ঢাকায় কিছুদিন থেকে গুজব চলছে :মুক্তিবাহিনীর গেরিলারা ক্রমে ক্রমে সবগুলো পাওয়ার স্টেশন অচল করে দেবে। ঢাকা শহরে লাইট, পানি কিছুই থাকবে না। শরীফ কিছুদিন থেকেই ভাবনাচিন্তা করছে বাসায় টিউবওয়েল বসানোর কথা। আমাদের বাথরুমগুলোয় ইয়োরোপিয়ান কমোড়, কিন্তু পানি ফ্লাশ করার সিস্টার্নটা সেকেলে। সাত ফুট উচুতে দেয়ালে বসানো। ছাদের ট্যাঙ্ক থেকে পাইপ দিয়ে পানি আসে। ওগুলো বদলে তিন ফুট উঁচুতে লো-ডাউন বসানোর কথাও ভাবছে শরীফ। তাহলে ট্যাঙ্কে পানি না থাকলেও কোন সমস্যা হবে না। লো-ডাউনের ঢাকনা খুলে বালতি থেকে পানি ভরে ফ্লাশ টানা যাবে।

ডাক্তার রাজশাহী ফিরে যাবার আগেই বাসায় টিউবওয়েল বসানোর কাজ সেরে রাখতে চান। এবার উনি একাই ফিরে যাবেন। সানু খুকু লুনা ঢাকাতেই থাকবে। এনায়েতপুরে চিঠি লিখে দিয়েছেন খোকন ও মঞ্জুকে ঢাকা চলে আসার জন্য।

বিকেলে শরীফ ঢাকা ক্লাবে গেল টেনিস খেলতে, আমি মার বাসায়। সন্ধ্যার আগ দিয়ে বাসায় ফিরে দেখি বারেক–কাসেম দুজনেই বা বিছানা বেঁধে উধাও! কি তাজ্জবের কথা! জামী ওপরে ছিল, টেরও পায় নি। কপাল ভালো, খোলা খিড়কি দরজা দিয়ে কোনো চোর বা ফকির বাসায় ঢোকে নি।