সম্ভাবনার দুয়ারে আছ দাঁড়িয়ে

সম্ভাবনার দুয়ারে আছ দাঁড়িয়ে

আট-নয় বছর আগে আমাকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হতো। সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে। ২০-৩০ টাকা ঘণ্টা ইন্টারনেট। বাসায় ইন্টারনেটের ব্যয় বহনের পয়সা ছিল না। সাইবার ক্যাফেতে নেটের গতি ছিল ভয়াবহ রকমের স্লো। এক ঘণ্টায় পাঁচ মিনিটের কাজ হতো। বিদ্যুৎ থাকত না। জেনারেটরের শব্দে, ঘামে, অন্ধকারে একাকার হয়ে যেত পরিবেশ! দিনভর ইউনিভার্সিটি, তারপর টিউশনি, এরপর সাইবার ক্যাফে–এমন দুঃসহ অবস্থা।সব মিলে ছিল অবর্ণনীয় পরিস্থিতি।

এখন দেশের ইন্টারনেট অনেক এগিয়ে। অসংখ্য তরুণ তরুণী নেটের অ্যাকসেস পাচ্ছেন। শেখার জন্য, যোগাযোগের জন্য, তথ্য জানার জন্য ইন্টারনেট এক সম্ভাবনার নাম। সে সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছ তুমি! উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আমরা পিছিয়ে আছি সত্যি, তবে সে জন্য তুমি পিছিয়ে থাকলে সে দায় নেবে না কেউ। বিশ্ববিদ্যালয় এসে তোমার পাশে দাঁড়াবে না। তোমার শিক্ষকেরা এসে দাঁড়াবেন না। তোমার বন্ধুরা এসে দাঁড়াবে না। জীবনযুদ্ধে কোনো সহযোদ্ধা নেই! সেখানে আনাম। সবাই একা।

ইন্টারনেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাও। সারা দুনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট ঘাটো। সেখানের ছেলেমেয়েদের দেখো। গবেষকদের সাইটগুলোতে ঢু মারো। তারা কী। যে কাজ করছেন, সেগুলো দেখো। না বুঝলেও দেখো। কেউ কানো দিন বুঝে জন্ম নেয়নি। দুনিয়ার বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডঃ লেকচার পাওয়া যায়। ফ্রি ভিডিও তৈরি হয়। সেগুলো দখো পথিবীতে যিনি যত জানেন, তিনি তত বেশি দেখেনও পড়েন। বেশি পড়া এবং বেশি বেশি দেখার কোনো বিকল্প নেই। বিবিসি প্রচুর ডকুমেন্টারি তৈরি করে। অসাধারণ সেসব ডকুমেন্টারি। সেগুলো দেখো। ইউনিভার্সিটির প্রথম থেকেই নানান দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নাও। তাদের ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানো। সব তথ্য এখন প্রতিটি ইউনিভার্সিটির ওয়েবপেজেই দেওয়া থাকে। ইউটিউব থেকে ভাষা শেখো। তৃতীয় ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হয় না। মোটামুটি জানলেও, সেটা কাজে আসে অনেক।

দুনিয়ার গবেষণা, শিক্ষা, ব্যবসা, উদ্যোগ, শিল্পকর্ম ইত্যাদি সব বিষয়ের একটা ট্রেন্ড থাকে। চলমান ফ্যাশন থাকে। সেই ফ্যাশনের তাল ও লয়টা বুঝতে হবে। সে তালের সঙ্গে চলতে পারার নামই আধুনিকতা, স্মার্টনেস! ইন্টারনেট থেকে সেগুলো এখন কম-বেশি জানা যায়। মানুষ যখন প্রচুর দেখেন ও পড়েন, তখন তার ভেতর প্রচুর আইডিয়া তৈরি হয়। তার ভেতর স্বপ্ন জাগে। ইন্টারনেট হলো রূপকথার সে দুয়ারের মতো, যার দুদিক দিয়েই প্রবেশ করা যায়। একদিক দিয়ে প্রবেশ করলে আলোকিত আনন্দভুবন। অন্যদিক দিয়ে পশিলে অন্ধকার। অলওয়েজ লুক এটা দ্য ব্রাইট সাইড! ভাবো, তুমি দাঁড়িয়ে আছ আলোকিত সম্ভাবনার বিপরীতে। শুধু প্রবেশ করার অপেক্ষায়!