ডিজিটাল ইগনোরেন্স

ডিজিটাল ইগনোরেন্স

গবেষণা-উদ্ভাবনের দুনিয়ায় আমরা পিছিয়ে থাকলেও দুনিয়ার সব। দেশ পিছিয়ে নেই। আমরা যখন একটা মিথ্যাকে সহস্র বছর। টিকিয়ে রাখি, দুনিয়ার বহু দেশ শুধু একটি মিথ্যাকে মুছে ফেলার জন্য সহস্র কোটি টাকা খরচ করে। সুতরাং, আমি চোখ বন্ধ করে যদি মনে করি দুনিয়াটা অন্ধকার, তাহলে আমি নিজেই অন্ধকারে রইলাম। অন্যদের তাতে কিছু আসে-যায় না।

কিছুদিন পরপর সংবাদপত্রগুলোতে বিজ্ঞান নিয়ে যত আজগুবি, বানোয়াট, ভুয়া সংবাদ দেখা যায়। কেউ কেউ নিউটনের সূত্র মিথ্যা প্রমাণ করেন। কেউ কেউ ক্যানসারের ওষুধ বের করেন। কেউ আবার কোনো ধরনের শক্তি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করেন। এসব খবর বহু শিক্ষিত মানুষও পড়েন, শেয়ার ও প্রচার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পর্যন্ত এসব খবর আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন!

কেউ যদি দাবি করেন, তিনি নিউটনের সূত্রের ভুল প্রমাণ করেছেন, তাহলে তিনি হলেন আস্ত পাগল! নিউটনের সূত্রে ভুল থাকলে সেটা বহু আগেই ধরা পড়ত। নিউটন সাহেব এই সূত্র আবিষ্কার করেছেন বলেই যে সবাই চোখ বন্ধ করে জি হুজুর, হুজর করে মেনে নিয়েছেন, তা নয়। সারা দুনিয়ায় এগুলোর যাচাই-বাছাই হয়েছে। সেসব সূত্রের ওপর মানবসভ্যতার কিছু দাঁড়িয়ে আছে! কিছুদিন আগে এক খবর ভাইরাল হলো, না ধরনের শক্তি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন! তার মানে দাঁড়ায়, শক্তি ছাড়াই শক্তির সৃষ্টি! এটা শক্তির নিত্যতা সূত্রবিরুদ্ধ! শক্তির কানো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই, এটার শুধু রূপান্তর হয়!

দেশের বহু মানুষ এখনো স্বপ্নে পাওয়া ওষুধে বিশ্বাস করেন। কাগ হলে আলগা বাতাস বলে কিছু একটা মনে করেন। পাগলা বাবা, দরবেশ বাবার ঝাড়ফুকে রোগ দূর হয়ে যায় বলে বিশ্বাস করেন। তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে রোগমুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এই মানুষদের মধ্য থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৈরি হন। অফিসার তৈরি হন। নায়ক-নায়িকা, ক্রিকেটার ও সেলিব্রেটি তৈরি হন। বহু সেলিব্রেটির কারণেও এসব অজ্ঞতা টিকে থাকে বা স্থায়িত্ব পায়। যেমন : মুস্তাফিজ যদি তার ফেসবুকে লেখেন–আম পাতা দিয়ে দাঁত মেজে তার দাঁতে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে কাল থেকে বহু আমগাছ খালি হয়ে যাবে। আমাদের এসব অজ্ঞতা হলো ডিজিটাল অজ্ঞতা। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে, তবে অজ্ঞতা অন্ধকারের মতোই ঘাপটি মেরে বসে আছে। দেশে একজন নেতাকে নিয়ে সমালোচনা করা যায় না। ধর্ম নিয়ে একটা যৌক্তিক কথাও প্রকাশ করা যায় না। অথচ বিজ্ঞান নিয়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যা, বানোয়াট খবর প্রকাশিত হচ্ছে। শিক্ষিত মানুষজন সেসব খবর গিলছেন। কী ভীতিকর! ডিজিটাল ইগনোরেন্স আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এসবের বিরুদ্ধে কজন শিক্ষক লিখছেন? কজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লিখছেন? কজন প্রতিবাদ করছেন?