উপন্যাস
গল্প
1 of 2

৩. শহরের জীবন

৩। শহরের জীবন

যেসব আবিষ্কার পৃথিবীর চেহারা পালটে দিয়েছে, তাদের ফিরিস্তিতে সবার আগে রয়েছে পরিবহণব্যবস্থা। যেমন রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি এবং পেটেন্ট রাস্তা। তারপর পরিবর্তনের ঢেউ এল মেহনতি মানুষদের কাজের ধারায়। চাষবাস ছেড়ে কলকারখানায় যোগ দিয়ে ভিড় করল শহরে। সেই সঙ্গে এল নানা রকমের দুর্ভোগ–ঊনবিংশ শতাব্দীতে যা কল্পনাও করা যায়নি। লোভী হয়ে উঠল মানুষ। গ্রামজীবনের উদারতা মিলিয়ে গিয়ে এল নিষ্ঠুর অর্থগুতা। জুয়ো খেলা, বিলাসিতা এবং অত্যাচারী মনোভাবে ছেয়ে গেল শহরের মানুষের মন। রোগের ডিপো হয়ে উঠল প্রতিটা শহর বেশি লোকের ভিড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

তিন শ্রেণিতে ভাগ হয়ে গিয়েছিল নতুন সমাজের মানুষ। সবার ওপরে ধনিক সম্প্রদায়। সবার নিচে শ্রমজীবী সম্প্রদায়। এই দুইয়ের মাঝে মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়।

মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের দুটি মানুষের ভালোবাসা, বিয়ে এবং পল্লি অঞ্চলে সাদাসিধে জীবনযাপন করতে গিয়ে অশেষ দুর্ভোগের কাহিনি বলা হয়েছে আগের অধ্যায়ে। গ্রাম ছেড়ে শহরে পালিয়ে এসে বাবার কাছে গচ্ছিত মায়ের শেয়ারের কাগজের ভিত্তিতে দেদার টাকা ধার করতে আরম্ভ করেছিল এলিজাবেথিটা। ডেনটন তখনও কপর্দকহীন।

চড়া সুদ দিতে হয়েছিল সে জন্যে। কিন্তু নতুন বিয়ের রঙিন মোহে তা নিয়ে মাথা ঘামায়নি দুজনের কেউই। ঘরদোর সাজিয়েছিল নিজেদের বিচিত্র রুচি অনুযায়ী। খুঁজেপেতে জোগাড় করেছিল সেকালের ছাপা বই, ভিক্টোরীয় আমলের অদ্ভুত আসবাবপত্র। মিতব্যয়ী থাকার চেষ্টা করেছে গোড়া থেকেই। একটি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সামাজিক রীতি অনুযায়ী শিশুপালন সংস্থায় না পাঠিয়ে রেখে দিয়েছে নিজেদের কাছে–সে জন্যে বাড়ি ভাড়া একটু বেশি লাগলেও ভ্রূক্ষেপ করেনি।

এইভাবেই কেটে গেল তিনটে বছর। একুশ বছরে পা দিল এলিজাবেথিটা। শেয়ারের কাগজপত্র বউয়ের নামে হস্তান্তর করার কথা বলতে শ্বশুরের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মুখ চুন করে ফিরে এল ডেনটন।

দুঃসংবাদটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল এলিজাবেথিটার। শেয়ারের দাম পড়ে গেছে। চড়া সুদে টাকা ধার করেও ফেঁসেছে দুজনে। শ্বশুরমশায় আবার বিয়ে করতে যাচ্ছে। হাতে রয়েছে আর মোটে এক হাজার সুবর্ণ লায়ন।

সুতরাং কাজের খোঁজে বেরতে হবে ডেনটনকে। বিপদ তো সেখানেও। উড়ুক্কু যন্ত্রযানের মঞ্চে ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়। এলিজাবেথিটাকে বিয়ে করতে চেয়ে ব্যর্থমনোরখ বিনডন এখন সেখানকার হর্তাকর্তাবিধাতা। কিন্তু লন্ডনের তিন কোটি তিরিশ লক্ষ মানুষের কেউ-না-কেউ নিশ্চয় কাজ দেবে ডেনটনকে।

কিন্তু শহর চষে ফেলেও কাজ পেল না ডেনটন। শেষে এমন অবস্থা এল যে, ওপরতলার দামি ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে নেমে আসতে হল দশ-বারোতলা নিচেকার সস্তা ফ্লাটে। এতদিন ধরে জোগাড়-করা মান্ধাতার আমলের শখের জিনিসপত্রও বেচে দিতে হল বুক ফেটে যাওয়া সত্ত্বেও। শেয়ার মার্কেটে ভাগ্যপরীক্ষা করতে গিয়ে হাজার লায়ন থেকে তিনশো লায়ন খুইয়ে একদিন বাড়ি ফিরল ডেনটন বিপর্যস্ত অবস্থায়। সাত-সাতটা দিন গুম হয়ে কাটাল ফ্ল্যাটের মধ্যে কেঁদেকেটে একসা করল এলিজাবেথিটা। তারপর আবার চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়ল ডেনটন। পেয়েও গেল একটা কাজ। সেলসম্যানের কাজ। চেহারাটা তো ভালো। মেয়েদের টুপি বিক্রি করার দোকানে তাই নামমাত্র মাইনের কাজখানা পেয়ে বর্তে গেল ডেনটন। এতদিন অবশ্য অনেক জায়গায় বড় কাজই খুঁজেছে– কিন্তু মাকাল ফলকে কে দেবে মোটা মাইনের বড় চাকরি?

কিন্তু চাকরি গেল দেড় মাস পরেই–অযোগ্যতার জন্যে। নতুন চাকরির খোঁজে বেরতে হল বেকার ডেনটনকে। কিন্তু তহবিল তদ্দিনে প্রায় শূন্য। মেয়েকে বাধ্য হয়ে দিয়ে আসতে হল শিশুপালন সংস্থায়, ইচ্ছা না থাকলেও। এ যুগের সবাই তা-ই করে। ধনী সম্প্রদায়ের বাচ্চাদের ভার নেয় সস্তার সংস্থারা। লেবার কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারী জুটিয়ে নেয় এখান থেকেই-বাচ্চারা বড় হয়ে যাবে কোথায়? মানুষ হওয়ার দেনা শোধ করতে হয় বেগার খেটে–আমৃত্যু।

হপ্তা তিনেক পরে ফ্ল্যাটের ভাড়া বাকি পড়তেই ঘাড়ধাক্কা খেতে হল দুজনকে। জিনিসপত্র কেড়ে নিল হোটেলের মালিক। দারোয়ানের কাছে লেবার কোম্পানির ঠিকানা জেনে নিয়ে বদ্ধপরিকর ডেনটন রওনা হল কুলির কাজেরই খোঁজে এলিজাবেথিটার হাত ধরে।

কিন্তু শিউরে উঠল নারকীয় সেই দৃশ্য দেখে। লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটের নাম পালটে হয়েছে নাইনটিন্থ ওয়ে। আটশো ফুট চওড়া। ধাপে ধাপে চলমান মঞ্চ কিনারা থেকে নেমে গেছে মাঝের দিকে। ঘন্টায় পাঁচ মাইল হারে গতিবেগ কমেছে প্রতিটি মঞ্চের। কাজেই ওপরতলার দ্রুতগামী মঞ্চ থেকে ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া যায় নিচের তলায়, মানে একদম মাঝের স্থির পথে। সিঁড়ি বেয়ে নামলেই দুপাশে সারি সারি নিচুতলার বাড়ি, কলকারখানা, বড় বড় আলোক-বিজ্ঞাপন, ফোনোগ্রাফে বিজ্ঞাপনী চিৎকার, কিনেমাটোগ্রাফে বিজ্ঞাপনী বাহার, ক্লাউনের বেশে হতশ্রী নারী এবং পুরুষদের সাজিয়েও বিজ্ঞাপনের বীভৎস কারবার।

দেখেই গা হিম হয়ে গেল এলিজাবেথিটার। মুখ সাদা হয়ে গেল ডেনটনের। তার জন্যেই আজ এলিজাবেথিটার এই দুরবস্থা। এর চাইতে যে বিয়ে না-হওয়াই ছিল ভালো।

ডেনটনের হাত ধরে এলিজাবেথিটা নিয়ে এল উড়ুক্কু যন্ত্রযানের সেই মঞ্চাসনে–পাঁচ বছর আগে যেখানে বসে ভবিষ্যতের সুখের স্বপ্ন দেখেছিল দুজনে। নিবিড় কণ্ঠে বললে ডেনটনকে, কেন এত মনস্তাপ? ডেনটনকে বিয়ে করে তো অসুখী নয় এলিজাবেথিটা? দুর্ভোগ এসেছে তো আসুক-না কেন–পাশাপাশি দাঁড়িয়ে লড়ে যাবে দুজনে।

হাত ধরাধরি করে নেমে এল দুজনে–গেল লেবার কোম্পানির দরজায়।

দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবেই প্রথমদিকে কাজ করে গেছে লেবার কোম্পানি। যে এসেছে দরজায়, তাকেই দিয়েছে খাদ্য, মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দিনভর কাজের সুযোগ। কোম্পানি গঠনের শর্তই ছিল তা-ই। খাটতে যারা অক্ষম, তাদেরকেও দিতে বাধ্য হয়েছে খাদ্য, মাথা গোঁজার ঠাঁই আর চিকিৎসা। বিনিময়ে শ্রম-চুক্তি সই করে দিত অক্ষম দুঃস্থরা–সেরে উঠলে গতরে খেটে শোধ করে যেত ঋণ। সই মানে টিপসই। ফোটো তুলে নেওয়া হত সেই সইয়ের। এমনভাবে নথিভুক্ত থাকত পৃথিবীব্যাপী লেবার কোম্পানির বিশ-তিরিশ লক্ষ টিপসই, যে ঘণ্টাখানেক খুঁজলেই বার করে নেওয়া যেত সইয়ের মালিককে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারখানায় খাটতে হত এক রোজ–তার জন্যে ছিল উপযুক্ত আইনকানুন। কার্যক্ষেত্রে অবশ্য একটু বাড়তি দিত লেবার কোম্পানি। খাওয়া-থাকা ছাড়াও কয়েকটা পেনি৷ কাজে উৎসাহ পেত শ্রমিকরা। ফলে দোলনা থেকে কবরখানা পর্যন্ত ঋণী এবং গোলাম হয়ে থাকত লেবার কোম্পানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মক্কেল৷

বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল এই ধরনের ভাবাবেগহীন কার্যকর পন্থায়। পথেঘাটে না খেয়ে কেউ আর মারা যেত না। ভিক্ষুক শ্রেণির বিলোপ ঘটেছিল। লেবার কোম্পানির স্বাস্থ্যকর নীল ক্যাম্বিসের কোর্তার মতো পোশাকও দুনিয়ায় আর কেউ দিতে পারেনি। দেখতে আহামরি না হলেও স্বাস্থ্য, খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসার প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই নীল কোর্তা। ফোনোগ্রাফিক নিউজপেপারগুলোয় অষ্টপ্রহর ঢাক পেটানো হত তা-ই নিয়ে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মতো পথেঘাটে এখন গাড়িচাপা পড়ে বা না খেয়ে কেউ মরে পড়ে থাকে না।

ওয়েটিং রুমে বসে রইল ডেনটন আর এলিজাবেথিটা ডাক আসার প্রতীক্ষায়। প্রতীক্ষারত বেশির ভাগ কর্মপ্রার্থীই গুম মেরে রয়েছে–দু-চারজন তরুণ ছাড়া। এরা জন্মেছে লেবার কোম্পানির ক্রেশ-এ, মারাও যাবে লেবার কোম্পানির হাসপাতালে, আমৃত্যু দাসখত-লেখা শ্রমিক। বাড়তি কয়েকটা শিলিং হাতে পেয়ে ওড়ায় ঝকমকে পোশাকের পেছনে। মুখে যেন খই ফুটছে। দেমাকে ফেটে মরছে।

ঝিমিয়ে রয়েছে যারা, তাদের ওপরেই এলিজাবেথিটার চোখ পড়ল সবার আগে। এদের মধ্যে রয়েছে এক বৃদ্ধা। চোখের জলে ধুয়ে যেতে বসেছে মুখের রং। ছিন্ন মলিন পোশাক, চোখে খিদের জ্বালা। একজন পাদরিও এসেছে কাজের খোঁজে। ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে বলেই কারবারে মন্দা যায় ভাগ্যহীনদের ক্ষেত্রে। বিশপমশায়েরও কপাল যে পুড়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে ঘোলাটে চোখ দেখে।

অচিরেই ডেনটন এলিজাবেথিটার ইন্টারভিউ-পর্ব সাঙ্গ হল মহিলা ম্যানেজারের সঙ্গে। দৃপ্তমুখ রুক্ষকণ্ঠ স্ত্রীলোকটির হাবভাবে কথাবার্তায় অপরিসীম তাচ্ছিল্য আর অবজ্ঞা। টিপসই নিয়ে নীল কোর্তা পরে সাদামাটা কিন্তু বিশাল খাবার ঘরে পৌঁছাল দুজনে। কদমছাঁট চুল কাটার দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়ে গেল নেহাত কপালজোরেই। লেবার কোম্পানিতে বেগার খাটতে এলেই কী নারী, কী পুরুষ–লম্বা চুল কেটে ফেলতে হয় প্রত্যেককেই। জীবনের প্রথম মেহনতি খানা খেয়ে কটুভাষিণী এই ম্যানেজারনির কাছেই ফিরে আসতে হবে কাজের নির্দেশ নিতে।

নীল কোর্তা পরার সময়ে ডেনটনের দিকে ফিরে তাকাতে পারেনি ম্রিয়মাণ এলিজাবেথিটা। তাকিয়ে ছিল কিন্তু ডেটন এবং অবাক হয়ে চেয়ে ছিল পলকহীন চোখে। নীল ক্যাম্বিসের পোশাকেও এত সুন্দরী এলিজাবেথিটা! তারপরেই রেললাইনের ওপর দিয়ে গড়িয়ে এসে ঝোলের বাটি ঝাঁকুনি খেয়ে সামনেই দাঁড়িয়ে যাওয়ায় চোখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল ডেনটন–স্রেফ খিদের জ্বালায়! তিন-তিনটে দিন পেটে দানাপানিও যে পড়েনি।

খেয়েদেয়ে একটু জিরিয়ে নিয়ে বিরসবদনে গুটিগুটি এসে দাঁড়িয়েছিল ম্যানেজারনির সামনে। খাওয়ার সময়ে এবং জিরেন নেওয়ার সময়ে কেউ কারও সঙ্গে কথাও বলতে পারেনি। কথার উৎস যেন শুকিয়ে গেছে।

দাবড়ানি দিয়ে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছিল দুমুখ ম্যানেজারনি। এলিজাবেথিটা একদিন ধাতু পেটাইয়ের কাজ শিখুক–চার পেন্স বোনাস পাবে। ডেনটনকে কাজ শিখতে হবে ফোটো কোম্পানিতে–বোনাস তিন পেন্স।

ডেনটনের ভাগ্যে জুটল কিন্তু অন্য কাজ। অত্যন্ত জটিল ধরনের জলের চাপে চলা মেশিন চালানোর কাজ। মাথা খাটানোর ব্যাপার আছে বলে ভালোই লাগল ডেনটনের। শহরের সমস্ত নোংরা জল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চারশো ফুট উঁচু চৌবাচ্চায় চালান হয় এ যুগে। সারি সারি পাম্প জল ঠেলে তুলে দেয় ওপরে। তারপর নানান পাইপের মধ্যে দিয়ে নেমে এসে ছড়িয়ে পড়ে লন্ডন শহরের চারদিকের খেতখামারে সার হিসেবে। নোংরা জল আর আবর্জনা সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার যুগ আর নেই–জল-দূষণ থেকে মুক্তি পেয়েছে বিশ্ববাসী। ডেনটন যে মেশিন চালাবে, তা এই বৃহৎ কর্মকাণ্ডেরই অংশ। মেশিন অবশ্য চলবে নিজেই –মেশিনের দাস হয়ে থাকতে হবে তাকে অন্যমনস্ক হবার জো নেই।

এলিজাবেথিটাকেও ধাতু পিটতে হল না শেষ পর্যন্ত। ধাতুর হরেকরকম প্যাটার্ন সৃষ্টির কাজ পেয়ে বর্তে গেল বেচারি। কারুকাজ-করা ধাতুর টালি দিয়ে ঘরদোর সাজানোর ফ্যাশন ছেয়ে ফেলেছে দ্বাবিংশ শতাব্দী। যান্ত্রিক হলে চলবে না–সে তো যন্ত্রেই হয়ে যায়। প্রাকৃতিক ছাঁদ থাকা চাই। দেখা গেছে এ কাজে মেয়েরা বেশ পোক্ত। মাথা খাঁটিয়ে বার করতে পারে হরেকরকম প্যাটার্ন।

মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স কিন্তু এলিজাবেথিটার। অনেক তাজাও বটে। দলের দু-তিনটে মেয়ে তো জন্মাবধি ক্রীতদাসী। বাকি কজনের বয়স হয়েছে। চোখ-মুখ নিস্প্রভ। চুলে পাক ধরেছে। গায়ের রং ফ্যাকাশে। কণ্ঠস্বর ক্ষীণ। এলিজাবেথিটাকে দেখে বিস্মিত প্রত্যেকেই।

নিচুতলার জীবনযাপন একটু একটু করে সয়ে গেল ডেনটন-এলিজাবেথিটার। অনেক নিষ্ঠুরতা, অত্যাচার, লাঞ্ছনা গেল মাথার ওপর দিয়ে। এমনকী একটা বড় রকমের শোকও খুব একটা নাড়া দিতে পারল না দুজনের আস্তে আস্তে শীতল হয়ে-আসা অন্তঃকরণকে। মারা গেল দুজনের নয়নের মণি–একমাত্র কন্যা!

পাতাল প্রদেশের বীভৎসতা, নির্যাতন, দুঃসহ দৈনন্দিন জীবনটাই যে সব নয়– একদিন… শুধু একদিনের জন্যে নতুন করে উপলব্ধি করেছিল দুজনে। এলিজাবেথিটা চেয়েছিল আকাশের তলায় গিয়ে উড়ুক্কু যানের সেই মঞ্চে নিচে চেয়ারে বসে থাকতে। তারকাখচিত উদার গগনের পানে তাকিয়ে যান্ত্রিক জীবন থেকে ক্ষণেকের পরিত্রাণ পেতে…

এসেছিল দুজনে। নীরবে বসে ছিল পুরানো সেই চেয়ারে। লক্ষ লক্ষ তারার ঝিকিমিকি দেখে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেছিল–পাতাল দুনিয়াটাই সব নয়–স্বর্গ এখনও আছে… ওই ওপরে।